দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
দক্ষিণের খবর ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১১:৫১ এএম
আপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রবাসী নাগরিকদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রোববার প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতেই সরকার এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে কার্ডটি চালু হলে কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
এর আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) কার্ড চালু রয়েছে।
মূলত বৈধভাবে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা বিএমইটিতে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই কার্ড পান।
এই কার্ডধারীদের সব তথ্য সরকারি তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকে। ফলে কোনো বিপদের মুখে পড়লে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়।
তবে আগে থেকেই বিএমইটি কার্ড থাকা সত্ত্বেও নতুন করে প্রবাসী কার্ড চালুর ঘোষণায় বাড়তি কী সুবিধা যুক্ত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিএমইটি কার্ডের সঙ্গে নতুন ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা যুক্ত করা হবে প্রবাসী কার্ডে। পাশাপাশি থাকছে আরও কিছু অতিরিক্ত সুবিধা।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিএমইটি কার্ডে থাকা তথ্যগুলোই প্রবাসী কার্ডে থাকবে। তবে এতে ব্যাংকিং সুবিধাসহ বাড়তি কিছু সেবা যুক্ত হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে চালু হওয়া বিএমইটি কার্ড প্রবাসীদের খুব বেশি কাজে আসেনি। নতুন কার্ড চালুর ক্ষেত্রে সেটি যেন বাস্তব উপকারে আসে, সে বিষয়েও সরকারের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রবাসী কার্ড কী এবং কেন?
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঠিক সংখ্যা সরকারের কাছেও নেই।
তবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দেড় কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও আরও অনেক প্রবাসী রয়েছেন, যাদের নির্ভুল তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নতুন নতুন নানা ধরনের কার্ড চালু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতেই এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কার্ডটি প্রবাসীদের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সেবা কার্ড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “প্রবাসী নাগরিকরা এই কার্ড পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। কার্ডে একটি কিউআর কোড থাকবে, স্ক্যান করলেই কার্ডধারীর বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে। মোবাইলের মাধ্যমেও এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।”
নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারেও প্রবাসী কার্ডের ঘোষণা ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, এই কার্ডে তথ্য, দক্ষতা ও চাকরির শর্ত সংরক্ষণ থাকবে। পাশাপাশি ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সহজ রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে।
যে সুবিধা থাকবে
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বৈধভাবে বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য বিএমইটি কার্ড চালু করা হয়। এই কার্ড ছাড়া কোনো শ্রমিক বৈধভাবে বিদেশ যেতে পারেন না।
বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা ও দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
অনেক প্রবাসী এখনো জানেন না, এই কার্ডের মাধ্যমে কী ধরনের সুবিধা মিলবে বা এটি তাদের জন্য কতটা জরুরি।
মালয়েশিয়া প্রবাসী শাহরিয়ার তারেক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “বিএমইটি কার্ডের মাধ্যমে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। তারপরও বিমানবন্দর বা দেশে বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে অনেক প্রবাসী হয়রানির শিকার হন। তাই এই কার্ড কতটা সুরক্ষা দেবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
জবাবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, এই কার্ডের সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক সুবিধা।
তিনি জানান, কার্ডে যুক্ত থাকবে ব্যাংকিং সিস্টেম। এটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ফলে প্রবাসীরা যে দেশে থাকবেন, সেখানকার মুদ্রা এবং বাংলাদেশি টাকায়ও লেনদেন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, “কোনো প্রবাসী চাইলে এই কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট করে বিদেশ থেকে নিজের পরিবারের জন্য কিছু কিনে দিতে পারবেন।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “অনেক সময় প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর পর তা পরিবারের সদস্যরা পুরোটা খরচ করে ফেলেন। এই কার্ড চালু হলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে খরচ করা যাবে।”
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভাগীয় ও জেলা শহরে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলা হবে।
যাদের কাছে এই কার্ড থাকবে, তারা সেখানে আবাসন বা প্লট কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বিএমইটি কার্ডের আওতায় যে বীমা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ সুবিধা রয়েছে, সেগুলোও বহাল থাকবে।”
এ ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবাসীরা যেন সম্মানজনক আচরণ পান এবং হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও এই কার্ডের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
কারা পাবেন, কীভাবে পাবেন?
এই কার্ড নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে কিছু ধোঁয়াশাও রয়েছে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে পরে চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই বিএমইটি কার্ড নেই।
সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী ইশতিয়াক আসিফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও ভিসা থাকতেই আলাদা করে প্রবাসী কার্ড কেন লাগবে? তারা তো রেমিট্যান্স পাঠিয়েই দেশের জন্য অবদান রাখছেন।”
জবাবে মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ৮০ শতাংশ প্রবাসীর তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। বিশেষ সুবিধা যুক্ত হলে অনেকেই এই কার্ড নিতে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে যাদের বিএমইটি কার্ড আছে, তাদেরই প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য নতুন করে নিবন্ধনের চিন্তাভাবনাও রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, “আগে বিএমইটি কার্ড করতে ফি লাগত। যাদের আগে থেকেই বিএমইটি কার্ড আছে, তাদের হয়তো নতুন ফি লাগবে না। তবে নতুন নিবন্ধনকারীদের ফি দিতে হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আগের বিএমইটি কার্ডও অনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে চালু হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেভাবে কার্যকর হয়নি। তাই নতুন প্রবাসী কার্ড চালুর আগে এটি কতটা বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হবে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”
সূত্র: বিবিসি বাংলা
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team